মাগুরা প্রতিদিন : মাগুরার সংসদীয় দুই আসনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামীর বিশাল নারী বাহিনী। জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের অন্তর্ভূক্ত প্রায় ৪৮ হাজার সুশৃঙ্খল নারী কর্মী হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে প্রতিটি বাড়ির নারীদের লক্ষ্য করে সংগঠিতভাবে ভোট সংগ্রহে নেমেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জেলার সংসদীয় মাগুরা-১ আসনে বিএনপি শক্তিশালী প্রার্থী জেলা বিএনপি সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান এবং মাগুরা-২ আসনে সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন যথাক্রমে কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য আব্দুল মতিন এবং জেলা জামায়াতের আমির মুশতারশেদ বিল্লাহ বাকের।
মাগুরায় বিএনপির শক্ত প্রতিপক্ষ এই দুই প্রার্থীর কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিতে জামায়াতের সুশৃঙ্খল নারী বাহিনীর সদস্যরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বিদের বাড়িতে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রæতি এবং মুসলিম প্রধান পরিবারে নারীদের ইসলামের পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। উভয় প্রার্থীর জন্যে এই নারী-নির্ভর প্রচারণা মাগুরার রাজনৈতিক মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রাও।
মাগুরা-১ আসনের দরিমাগুরা দোয়ারপাড়া এলাকার কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্য কোনো দলের পক্ষে যেখানে একবারও কেউ ভোট চাইতে আসেনি, সেখানে দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে নারী কর্মীরা একাধিকবার পালাক্রমে হাজির হচ্ছেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, আমাদের পরিবার বরাবরই বিএনপিকে ভোট দিয়ে থাকে। তবু জামায়াতের নারীরা আমাদের বাড়ির ভোটও বের করবার চেষ্টা করছে। “জামায়াত প্রার্থীর প্রতীক দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে ইসলামের পক্ষে থাকা হবে, ইসলামের শাসন নিশ্চিত হবে-এমন কথা বলে তারা আমাদের কাছে ভোট চাইছেন।”
মাগুরা-২ আসনের শালিখা উপজেলার শতখালি এলাকার আফরোজা বেগম জানান, “আমাদের এলাকায় আব্দুর রহিম ও বাবর আলির স্ত্রীসহ ৪-৫ জন জামায়াতের কর্মী বাড়িতে এসে ভোট চেয়েছেন।”
তারা বলেছেন, “একদিন সবাইকে মরে যেতে হবে। ভালো কাজে পরকালে যাতে বেহেস্ত পাওয়া যায়। সেই হিসেবে অন্তত একটি ভালো কাজ হবে ইসলামের পক্ষের দল জামায়াতের দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে।”
তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে জামায়াত। মাগুরা জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি সালমা খাতুন বলেন, “আমাদের নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের অধীনে ১৫-২০ জন করে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যরা দিনে দুই ভাগে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেস্ত পাওয়া যাবে কিংবা চটকদারি কোনো প্রতিশ্রতি দিয়ে আমরা ভোট চাইছি না। বরং জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে দেশে সুশাসন থাকবে, নারীদের মর্যাদা দেওয়া হবে এবং অসহায় ও শিক্ষিত নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে-এটি আমরা বিশ্বাস করি।”
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা জামায়াতের আমির মুরতারশেদ বিল্লাহ বাকের বলেন, “মাগুরা-১ আসনে ১৮ হাজার এবং মাগুরা-২ আসনে ৩০ হাজার নারী কর্মীসহ দলের বিভিন্ন সুশৃঙ্খল ইউনিট দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করছে। নির্বাচনের দিনে এর সুফল আমরা ইনশাআল্লাহ পাবো।”